সোমবার । ৮ই জুন, ২০২৬ । ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফুটবল, বাকি মাত্র ০৩ দিন

মোঃ আনিস উদ্দিন

ফুটবল বিশ্বকাপ সবাইকে এক সমতলে নিয়ে আসে। এখানে সবাই অভিজাত স্কুলের মাঠে বা ব্যয়বহুল সুযোগ-সুবিধায় বেড়ে ওঠে না। কেউ রিও ডি জেনিরোর বস্তি, নাইরোবির ঝুপড়ি ঘর থেকে, কেউ আবার মোনাকো বা বেভারলি হিলসের অভিজাত পরিবেশ থেকে ফুটবলের মাঠে আসে। পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের শিশুই ফুটবল খেলেই বড় হয়। এই খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো- অনেক সময়ই সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রাই হয়ে ওঠেন জাতির নায়ক, মাঠের ভেতর ও বাইরে আইকন। বিশ্বকাপ সেই জায়গা, যেখানে কিংবদন্তিরা নিজেদের ইতিহাস লেখেন।

দশকের পর দশক ধরে ‘সর্বকালের সেরা ১০ বিশ্বকাপ ফুটবলার’ নিয়ে বিতর্ক চলছে, যা আগামী দিনেও চলবে। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে এখানে তুলে ধরা হলো আমাদের মতে ইতিহাসের সেরা ১০ জন বিশ্বকাপ তারকার ৫ জনের কথা:

মিরোস্লাভ ক্লোসা : জার্মানির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসা তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্বের জন্য সবার মন জয় করেছেন। গোল করে ডিগবাজি খাওয়া (সামারসল্ট) এই স্ট্রাইকারের পুরো ক্যারিয়ারটি ছিল ফেয়ার প্লে এবং সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জার্মানির জার্সিতে ১৩৭ ম্যাচে ৭১টি গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোল সংখ্যা ১৬টি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

লোথার ম্যাথাউস : জার্মানির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার লোথার ম্যাথাউস ১৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৩টি গোল করেছেন। মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দাপিয়ে বেড়ানো (বক্স-টু-বক্স) এই মিডফিল্ডার পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন এবং ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতাতে নেতৃত্ব দেন।ফেরেঙ্ক পুসকাস : ফেরেঙ্ক পুসকাস ছিলেন হাঙ্গেরির সোনালী প্রজন্ম ‘মাইটি ম্যাগিয়ার্স’-এর অধিনায়ক, জিমি হোগানের ‘টোটাল ফুটবল’ দর্শনে বিশ্ব ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তারা। হাঙ্গেরির হয়ে ৮৫ ম্যাচে তিনি অবিশ্বাস্য ৮৪টি গোল করেছিলেন এবং পরবর্তীতে স্পেনের হয়েও ৪টি ম্যাচ খেলেন।

জিমি গ্রিভস : ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের সামনে যার ভাস্কর্য থাকা ববি মুরও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কাছে জিমি গ্রিভসের মতো এতটা জনপ্রিয় ও প্রিয় ছিলেন না। গ্রিভস ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের অংশ ছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের জোসেফ বোনেলের একটি মারাত্মক ফাউলের কারণে তাঁর পায়ে ১৪টি সেলাই দিতে হয়, ফলে ফাইনালে আর খেলতে পারেননি। ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে গ্রিভস ছয়টি হ্যাটট্রিক করেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত একটি রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে। ১৯৬৬ সালের সেই বিশ্বকাপ জয় এখনো ইংলিশদের জাতীয় গৌরবের একটি বড় অংশ।

জিনেদিন জিদান : ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং একই সাথে বিতর্কিত খেলোয়াড় জিনেদিন জিদান। ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন জিদান, ফাইনালে করেছিলেন জোড়া গোল। ইনজুরির কারণে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে অধিকাংশ সময় মাঠের বাইরেই ছিলেন, দলও বেশিদূর আগাতে পারেনি সেবার। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন- কিন্তু ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঢুস (হেডবাট) মেরে লাল কার্ড দেখে কুখ্যাতিও জুড়ান। ফ্রান্সের হয়ে ১০৮ ম্যাচে ৩১ গোল করা এই ম্যাজিশিয়ান তাঁর জাদুকরী নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় দলকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন